কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
দলীয় পদ ফিরে পাওয়ার চিঠিটি তখনো হাতে এসে পৌঁছায়নি। তার আগেই চিরদিনের জন্য ওপারে পাড়ি জমালেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির (সাময়িক স্থগিত হওয়া) সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর।
অথচ ঠিক তার আগেই কেন্দ্রীয় বিএনপি তার ওপর থাকা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মিঠামইন সদরের কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণ করা সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ উপজেলা সভাপতির পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই ঘটনায় তাকে কিছুদিন কারাগারেও থাকতে হয়েছিল।
পরবর্তীতে তিনি এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, সেই চিঠিটি জাহাঙ্গীরের হাতে পৌঁছানোর আগেই ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।
গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগী হাদিস। এ সময় অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল দুর্বৃত্ত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বরগুনার বামনা উপজেলার বাসিন্দা। ধারণা করা হচ্ছে, তাদেরকে ঢাকা থেকে ভাড়া করে এনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এদিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রুবেল তার ফেসবুক আইডিতে জাহাঙ্গীরের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের সেই চিঠিটি প্রকাশ করেন। চিঠিটি শেয়ার করে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি।
”মাত্রই তো গত শনিবার এই চিঠির জন্য আপনাকে নিয়ে ঢাকা গেলাম, কিন্তু চিঠি আপনার হাতে আসার আগেই আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এত তাড়া ছিল শান্তিতে ঘুমানোর? আমার বাবা চলে গেছেন গত জুলাই মাসে, এখনও এক বছরও হয়নি। তখন আপনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। আজ আপনি চলে গেলেন আমাকে পুরো এতিম বানিয়ে। আপনার সাথে দীর্ঘ ১৯ বছরের পথচলায় সবসময় সন্তানের স্নেহ দিয়েছেন। আমার পরিবারের সকলেই আপনাকে অভিভাবক মনে করত।”
জসিম উদ্দিন রুবেল আরও লেখেন, “তবে আপনি শান্তিতে ঘুমান, আমি কিন্তু ঘুমাব না। আপনার সন্তান হয়ে সন্তানের দায়িত্ব পালন করব। আপনার প্রকৃত খুনিদের এবং মাস্টারমাইন্ডদের শাস্তি নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।”
দলীয় পদ ফিরে পাওয়ার আনন্দের চেয়েও এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর স্বজনদের কান্না এখন ভারী করে তুলেছে মিঠামইনের বাতাস। প্রিয় নেতাকে হারিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
Devoloped By WOOHOSTBD